আবু তালিব ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর চাচা এবং দাওয়াতি জীবনের সূচনালগ্নে তাঁর অন্যতম শক্ত ঢাল। কুরাইশদের প্রতিনিধি দলের হুমকি-ধামকি থেকে শুরু করে শিয়াবে আবু তালিবের কঠিন অবরোধ—সব পরিস্থিতিতেই তিনি প্রিয় ভাতিজাকে আগলে রেখেছেন। নিজের সর্বোচ্চ ভালোবাসা, ত্যাগ ও দায়িত্ববোধ দিয়ে তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর পাশে ছিলেন, কখনো তাঁকে ছেড়ে যাননি।
কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো—হেদায়েতের নূর তাঁর কপালে ছিল না। মৃত্যুশয্যাতেও নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছেন, কালিমা পাঠের অনুরোধ করেছেন; কিন্তু তিনি তা কবুল করেননি।
সীরাতের কিতাবগুলোতে যতবার এই ঘটনা পড়েছি, ততবারই চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছে। এই ঘটনাটিতে আমাদের জন্য রয়েছে গভীর শিক্ষা। আমরা চাইলেই কাউকে হেদায়েত দিতে পারি না; আমরা হেদায়েতের মালিক নই। আমাদের দায়িত্ব শুধু উত্তম ভাষায়, দরদ ও ভালোবাসা দিয়ে আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। হেদায়েত দেওয়া একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাজ।
তারপরও মানুষ হিসেবে প্রিয়জনের আল্লাহ বিমুখতা, ইসলাম নিয়ে উদাসীনতা কিংবা সত্য গ্রহণে অনাগ্রহ আমাদের বারবার মনোকষ্টের কারণ হতে পারে—এটাই স্বাভাবিক। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে বলেন— ❝তুমি যাকে পছন্দ করো, তাকে হেদায়াত করতে পারবে না; তবে আল্লাহ তা‘আলাই যাকে ইচ্ছা হেদায়াতের পথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত।❞ (সূরা কাসাস: ৫৬)
